৮ এপ্রিল, ২০২৬

সিংড়ায় সূর্যমুখীর হাসি, লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক জাকির

সিংড়ায় সূর্যমুখীর হাসি, লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক জাকির

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মাঠ এখন হলুদের সমারোহ। ধান, বরই ও পেয়ারা চাষে আগে থেকেই সফল কৃষক জাকির হোসেন এবার ঝুঁকেছেন সূর্যমুখী চাষে। প্রথমবারের মতো এই তেলবীজ চাষ করে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।

জাকির হোসেন সিংড়ার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে পাওয়া সরকারি প্রণোদনার সহযোগিতায় বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন তিনি।

জমিতে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি গাছে ফুটে থাকা বড় বড় সূর্যমুখী ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে আছে। সবুজের মাঝে হলুদের এই দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পথচারীরা।

স্বল্প খরচ ও লাভজনক
কৃষক জাকির হোসেন জানান, সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি অনেকটা সরিষার মতোই, তবে এতে খরচ তুলনামূলক কম। তিনি বলেন, ‘দেড় বিঘা (৫০ শতাংশ) জমিতে চাষাবাদ থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে গাছের যে অবস্থা, তাতে বিঘা প্রতি ৫ মণ করে ফলন পাওয়ার আশা করছি।’

বাজারে বর্তমানে সূর্যমুখী বীজের দাম মণ প্রতি প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে এই স্বল্প সময়ে তাঁর অন্তত ১০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। এই ফসল ঘরে তুলতে সময় লাগে মাত্র ৯০ থেকে ১০৫ দিন। এরপর একই জমিতে আমন ধানসহ আরও দুটি ফসল অনায়াসেই চাষ করা সম্ভব।

বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ
উপজেলায় সূর্যমুখী চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, ‘ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে আমরা কৃষকদের সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। জাকির হোসেনের মতো অন্য কৃষকেরাও যদি এগিয়ে আসেন, তবে আগামীতে সিংড়ায় এই চাষ আরও বাড়বে।’

ভালো লাভ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কৃষক জাকির হোসেন।