৮ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে ইরানের ১০ দফা: মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি

ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে ইরানের ১০ দফা: মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি

আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা। তবে বৈঠকের আগেই নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে ইরান। এই প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চিরস্থায়ী অবসান।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) এই ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের এই অনমনীয় শর্তাবলি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান দিক হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। তেহরান দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রণালিতে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত’ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এটি কার্যকর হলে জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রশ্নাতীত হয়ে উঠবে।

মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার ও মিত্রদের সুরক্ষা
ইরানের পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের মতো ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। তেহরানের মতে, এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য বাইরের শক্তির বিদায় অপরিহার্য।

অর্থনৈতিক ও আইনি শর্তাবলি
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইরানের অবস্থান আগের চেয়েও কঠোর। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে:

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব ধরণের মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল।

বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া।

বিগত বছরগুলোতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া পরিস্থিতির জন্য ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ প্রদান।

জাতিসংঘের গ্যারান্টি চাই
ইরান দাবি করেছে, ইসলামাবাদে যে কোনো সমঝোতা হলে তাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে। এতে করে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যেন চুক্তি থেকে সরে যেতে না পারে, তার আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

"ইসলামাবাদ আলোচনা কেবল আলোচনার জন্য নয়, এটি হতে হবে ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চূড়ান্ত দলিল।" — ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ সূত্র

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই ১০ দফা প্রস্তাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘টেক ইট অর লিভ ইট’ (মেনে নাও অথবা ছাড়ো) পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যখন মুখোমুখি বসবেন, তখন এই প্রস্তাবগুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।