যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনার পর দুই দেশের এই নমনীয় অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের এই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে সংঘাতের তীব্রতা কমতে শুরু করেছে।
শান্তির পথে ফেরার আহ্বান
বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা’ কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই দুই সপ্তাহ যেন কেবল সাময়িক বিরতি না হয়, বরং একে কাজে লাগিয়ে একটি ‘স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ’ শান্তির পথ প্রশস্ত করতে হবে।
মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাই বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষা এবং মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করা জরুরি।
কূটনৈতিক মহলে স্বস্তি
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান ও কাতারের দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতার ফলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। যদিও দুই দেশের কোনো পক্ষই এখনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে এই বিরতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মহাসচিব ব্যক্তিগতভাবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যাতে করে এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। বিশেষ করে গাজা ও লেবানন সীমান্তে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন,
"শান্তি কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এখন সেই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।"
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ১৪ দিন আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। যদি এই সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তবে আগামীতে বড় ধরনের কোনো শান্তিচুক্তির আশা করা যেতে পারে।