৪ এপ্রিল, ২০২৬

বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল

বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঘণ্টা বাজছে। এই হামলার ফলে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বিপর্যয় কেবল ইরানের সীমানায় আটকে থাকবে না; বরং এর বিষাক্ত প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়বে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।

‘জাপোরিঝিয়া’ বনাম ‘বুশেহর’: পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সেখানে সংঘাতের সময় পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে উদ্বেগে ফেটে পড়েছিল, বুশেহর কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তাদের সেই উদ্বেগ কোথায়? এই নীরবতা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।”

চারবার হামলার নেপথ্যে কারা?
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে চারবার বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন বা তেল আবিব এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। আরাগচি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল পারমাণবিক কেন্দ্রই নয়, বরং ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।

জিসিসি দেশগুলোর জন্য রেড অ্যালার্ট
আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, বুশেহর থেকে যদি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে, তবে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর রাজধানীগুলো সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমুদ্রের বাতাস এবং পরিবেশগত প্রবাহ এই বিষাক্ত কণাগুলোকে দ্রুত প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

অস্পষ্টতা ও ঘনীভূত শঙ্কা
হামলার প্রকৃত উৎস, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং বর্তমান তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। কোনো পক্ষই সরাসরি দায় স্বীকার না করায় এক রহস্যময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে।