২ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতিকূলতা জয় করা দেবহাটার পাঁচ ‘জয়িতা’র গল্প

প্রতিকূলতা জয় করা দেবহাটার পাঁচ ‘জয়িতা’র গল্প

সমাজ ও পরিবারের নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বমহিমায় ভাস্বর হয়েছেন সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পাঁচ নারী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই লড়াকু নারীদের অদম্য পথচলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘জয়িতা’ সম্মাননা।

নিচে তাঁদের সেই কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে সফল হওয়ার গল্প তুলে ধরা হলো:

সমাজ উন্নয়নে উত্তরা দাশ
নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহবধূ হয়েও সমাজসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন মাঝ পারুলিয়া গ্রামের উত্তরা দাশ। নিজ উদ্যোগে এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশুশ্রম ও ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের অধিকার আদায় এবং সরকারি ভাতা ও বৃত্তি পেতে দরিদ্রদের সহায়তা করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

শিক্ষা ও চাকরিতে হেলেনা পারভীন
মাঘরী গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হেলেনা পারভীন। ছয় বোনের মধ্যে বড়দের পড়াশোনার সুযোগ না হলেও হেলেনা হার মানেননি। টিউশনি ও স্কুলে প্যারা শিক্ষকের কাজ করে দর্শন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত হেলেনা নিজের আয়ে অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও পাঁচজনের সংসারের হাল ধরেছেন।

সফল জননী চন্দনা রানী রায়
দারিদ্র্য ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েও দমে যাননি বহেরা গ্রামের চন্দনা রানী। হাঁস-মুরগি পালন করে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে একমাত্র মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। মায়ের সেই ত্যাগের মর্যাদা দিয়েছেন মেধাবী মেয়েটিও। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে চন্দনার মেয়ে এখন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যয়ন করছেন।

নতুন জীবনে হামিদা খাতুন
যৌতুক ও নির্যাতনের জেরে ২০০৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় হামিদা খাতুনের। লোকলজ্জা তুচ্ছ করে পিত্রালয়ে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। নিজের উপার্জনে ছোট বোনদের পড়াশোনা ও বিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি।

অর্থনৈতিক সাফল্যে রোকেয়া খাতুন
গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের রোকেয়া খাতুনের একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরোত। স্বামীর অনিশ্চিত আয়ে সংসার চালানো ছিল দায়। পরে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসামগ্রীর ব্যবসা ও গবাদিপশু পালন শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমে আজ তিনি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। কাঁচা ঘর ভেঙে পাকা ঘর তুলেছেন, সন্তানদের করাচ্ছেন ভালো স্কুলে পড়াশোনা।

দেবহাটার এই পাঁচ জয়িতা এখন স্থানীয় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার অন্য নাম। তাঁদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।