৩১ মার্চ, ২০২৬

দুবাই উপকূলে কুয়েতি জাহাজে ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল সাগরের পরিবেশ

দুবাই উপকূলে কুয়েতি জাহাজে ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল সাগরের পরিবেশ

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত কুয়েতের একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল সোমবার রাতের এই হামলায় জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আজ মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার (অয়েল স্পিল) বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, ‘আল-সালমি’ নামের ওই জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। হামলার সময় জাহাজটি দুবাই উপকূলে নোঙর করা ছিল।

দুবাই বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ড্রোন আঘাত হানার পরপরই জাহাজের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিচতলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও নৌ-অগ্নিনির্বাপক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রুর সবাই সুরক্ষিত আছেন।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা আঘাত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। ট্রাম্প গতকাল বলেছিলেন, ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলোতে সরাসরি হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সেই হুমকির জবাব দিতেই ইরান এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। তবে কুয়েতি জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইরান বার্তা দিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৪ ডলার বেড়ে যায়। আক্রান্ত জাহাজটিতে থাকা তেলের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের বেশি। তবে আজ সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখনই বড় কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে চান না এবং কূটনৈতিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি সংকট সমাধানের পথ খুঁজছেন।

পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, জাহাজটির কাঠামোয় ফাটল ধরায় তেলের ট্যাঙ্কারগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদি কোনো কারণে ২০ লাখ ব্যারেল তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও আরব আমিরাতের উপকূলে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে একটি কারিগরি দল জাহাজের ছিদ্র মেরামতের কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।