পুষ্টির চাহিদা মেটাতে জিংক সমৃদ্ধ ধান ও গমের আবাদ সম্প্রসারণে ঠাকুরগাঁওয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের এক বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) শহরের ইএসডিও প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই)-এর হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রামের আওতায় ‘রিঅ্যাক্টস-ইন’ প্রকল্পের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও।
প্রশিক্ষণে ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার মোট ২৫ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশ নেন। দিনব্যাপী এই অধিবেশনে মানবদেহে জিংকের গুরুত্ব, জিংকের ঘাটতিজনিত সমস্যা এবং তা পূরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জিংক সমৃদ্ধ ধান ও গমের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের ধারণা দেওয়া হয়।
আলোচনায় পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা
প্রশিক্ষণ সেশনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে আমন মৌসুমে ব্রি ধান-৭২ ও বিনা ধান-২০ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান-৭৪, ৮৪, ১০০ ও ১০২ জাতের চাষাবাদ জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতের বিস্তার ঘটলে দেশের পুষ্টিহীনতা দূর করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, হারভেস্ট প্লাসের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়াহিদুল ইসলাম এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরআরআই (BRRI) রংপুর আঞ্চলিক স্টেশনের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার রকেবুল হাসান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর।
কানাডা সরকারের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন, হারভেস্ট প্লাস, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে এই ‘রিঅ্যাক্টস-ইন’ প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের এই দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা জিংক সমৃদ্ধ ফসল চাষে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন।