৩০ মার্চ, ২০২৬

নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে বিরোধে তরুণ খুন, গ্রেপ্তার ৮

নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে বিরোধে তরুণ খুন, গ্রেপ্তার ৮

নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে মো. নিরব (২৬) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিহত নিরব সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। পেশায় তিনি স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলা বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিরব মারা যান।

বিরোধের নেপথ্যে মাদক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরব বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি মাদক নিয়ে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে নিরবের বিরোধ তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জেরে গত রোববার সকালে নিরব তাঁর সহযোগীদের নিয়ে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালান। এতে রুবেলের কয়েকজন অনুসারী আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নিরব ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে। এ সময় নিরবকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত নিরবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক দুজনকে এবং পরবর্তী সময়ে রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।