ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়বে না।
আজ সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে পা দেব না।’ তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষায় লন্ডন কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৌশলী অবস্থানে লন্ডন
সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ না নিলেও রণকৌশলগতভাবে যুক্তরাজ্য বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে ব্রিটেনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, স্টারমার সরকার ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ছোড়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো টহল দিচ্ছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্টারমারের এই ঘোষণা মূলত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ। একদিকে তিনি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখছেন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্রিটেনের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পথে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।