২৯ মার্চ, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নিহত ২২ জনের ১২ জনই সুনামগঞ্জের, সাগরে ফেলা হয় লাশ

ভূমধ্যসাগরে নিহত ২২ জনের ১২ জনই সুনামগঞ্জের, সাগরে ফেলা হয় লাশ

লিবিয়া থেকে সাগরপথে রাবারের নৌকায় গ্রিসে যাওয়ার পথে ট্রাজেডির শিকার হয়েছেন একদল অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভূমধ্যসাগরে পথ হারিয়ে দীর্ঘ ছয় দিন ভাসতে থাকা ওই নৌকায় খাবার ও পানির সংকটে ২২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার আজ রোববার জানিয়েছেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

সাগরে ছয় দিনের যমযন্ত্রণা
উদ্ধার হওয়া এক যুবকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ছোট ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে লিবিয়া থেকে লোকজনকে গ্রিসে পাঠানো হয়, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘গেম’ বলা হয়। গত সপ্তাহে রওনা দেওয়া এই নৌকাটি মাঝসাগরে পথ হারিয়ে ফেলে। ছয় দিন সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকার ফলে সঙ্গে থাকা যৎসামান্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে যায়। মূলত অনাহার ও তৃষ্ণায় একে একে ২২ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মারা যাওয়ার পর তাঁদের লাশ দুই দিন নৌকায় রাখা হয়েছিল, পরে তা সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

গত ২৭ মার্চ গ্রিসের কোস্টগার্ড জীবিতদের উদ্ধার করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশির অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

শোকাতুর গ্রাম, দালালের ফাঁসির দাবি
সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম। আজ দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মৃত শায়েক আহমদের বাবা আখলুছ মিয়া বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পুয়ারে না খাওয়াইয়া মারল। আমি দালাল আজিজুলের ফাঁসি চাই।’ শায়েককে গ্রিসে পাঠাতে দালাল আজিজুল ইসলামকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। এই আজিজুল লিবিয়ায় থেকে মানব পাচারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালদের সঙ্গে মাথাপিছু ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল। গত মাসে তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন।

দালালের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আজ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব দালালের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাদের চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় মিলেছে তাঁরা হলেন—দিরাইয়ের নুরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া, মুজিবুর রহমান, তায়েক মিয়া ও সোহাস; দোয়ারাবাজারের আবু ফাহিম; জগন্নাথপুরের সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী।

স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা অধিক মুনাফার লোভে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় অতিরিক্ত মানুষ তুলে দিয়েছিল, যা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল কারণ।