সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাঞ্জের সামনে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার, ফেস্টুন আর ফুলের মালা হাতে অপেক্ষমাণ আর্চারি ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও একঝাঁক ক্রীড়াপ্রেমী। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে এলেন রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকীরা, তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ইউরোপে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশ আর্চারি দলকে এভাবেই রাজকীয় সংবর্ধনায় বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
লাল-সবুজের জয়জয়কার
এবারের টুর্নামেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে একের পর এক পদক জিতেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তীরন্দাজরা। ব্যক্তিগত ইভেন্টেও এসেছে সাফল্য। বিমানবন্দরে পা রেখেই দলের তারকা আর্চার রোমান সানা বলেন, "এই জয় পুরো দেশের। বিদেশের মাটিতে জাতীয় সঙ্গীত যখন বাজছিল, সেই মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাদের লক্ষ্য এখন আরও বড়।"
বিমানবন্দরে উৎসবের আমেজ
দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের গলায় একে একে ফুলের মালা পরিয়ে দেন আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের হাত ধরে বাংলাদেশ আর্চারি যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, সে কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন ফেডারেশনের কর্তারা।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সোনাজয়ীদের জন্য বিশেষ অর্থ পুরস্কার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
আগামীর লক্ষ্য
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আর্চারি দল। সামনেই রয়েছে বড় আন্তর্জাতিক আসর। দিয়া সিদ্দিকী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই সোনা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।"
মিষ্টি মুখ আর ফটোসেশনের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দলটিকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সাফল্য দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।