আগ্রাসী অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ‘নো কিংস’ (রাজতন্ত্র নয়) শিরোনামে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গত শনিবার দেশটির ৩ হাজার ২০০-এর বেশি স্থানে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে এটিই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় গণজমায়েত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, ডালাস এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট শহরগুলোতেও বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের মতে, গত বছরের তুলনায় ছোট শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘রাজাদের শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই’
নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে প্রায় লাখো মানুষের এক বিশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা অস্তিত্বের সংকটে ফেলেননি।’ বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে গণতন্ত্র রক্ষা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেখা যায়। ৫৪ বছর বয়সী হলি বেমিস নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা রাজাদের শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছি স্বাধীনতার জন্য। এখন আমরা আবারও ঠিক সেই কাজই করছি।’
উত্তপ্ত মিনেসোটা ও ওয়াশিংটন
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন গভর্নর টিম ওয়ালৎস এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সেখানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ছবি সংবলিত পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান সাধারণ মানুষ। বার্নি স্যান্ডার্স হুংকার দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা অলিগার্কদের হাতে ছেড়ে দেব না। এ দেশে জনগণের শাসন থাকবে।’
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন। সেখানে মেরিল্যান্ড থেকে আসা একদল প্রবীণ নাগরিককে হুইলচেয়ারে বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওরেগনের ফেডারেল ভবনের সামনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, একটি ফেডারেল ভবন ঘিরে রাখার সময় হামলা ও দাঙ্গার অভিযোগে অন্তত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসেও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
কেন এই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধংদেহী মনোভাব সাধারণ মার্কিনীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে কেন্দ্র করেই এই ‘নো কিংস’ আন্দোলন দানা বেঁধেছে।