মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনায় টালমাটাল হয়ে পড়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে ওমান—বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে চালানো এসব হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই সমন্বিত হামলার দায় স্বীকার না করলেও এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে আঘাত
সবচেয়ে বড় হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ (ইজিএ)-এর প্রধান কারখানায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় তাদের কারখানার একটি বড় অংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
প্রায় একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ (আলবা)। সেখানেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে। জ্বালানি ও শিল্প খাতে এই জোড়া আঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকেও সংকটে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুয়েত ও ওমানে বিশৃঙ্খলা
আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি কুয়েত ও ওমানও। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় দেশটিতে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। হামলার পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
সৌদি আরবে ড্রোনের মহড়া
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটি দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে।
কেন এই উত্তেজনা?
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে পাঁচটি দেশে এই ধরনের সুপরিকল্পিত হামলা সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো একটি বড় ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় না নেওয়ায় পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল।