২৯ মার্চ, ২০২৬

মাটির ব্যাংক....

মাটির ব্যাংক....

এই শহরের বাতাস বড় অদ্ভুত, দূষিত-দূরারোগে আক্রান্ত
তবুও এই শহরেই নাকি টাকা উড়ে

কেউ টাকার বিছানায় ঘুমায়
কারো চোখের দৃষ্টিতে আবার টাকার ভোল্ট খোলে
কখনো কখনো ঘোলা পানিতে নাকি টাকা ভাসে
পাঁচশ টাকা এক হাজার টাকার নোট

আমিও রঙ বেরঙের নোট দেখেছি, দোয়েলপাখি ওয়ালা নোট, মসজিদের ছবি আকা নোট... আরো কত নোট
এখনো নোট দেখি
আমার নোটগুলো বাতাসেও উড়ে না, পানিতেও ভাসে না
আমার নোট গুলো আসে মাটির ব্যাংক থেকে

নানান রঙের নোট মিলিয়ে হাজার টাকা হয়, তবে লাখ লাখ হয় না
সেই মাটির ব্যাংক খানা কবে যে নিজেকে বদলে প্লাস্টিকের ব্যাংক হয়েছে, তা আমি ঠাওরেই করতে পারিনি
ব্যাংকগুলো মাটি থেকে প্লাস্টিক হলো, নোটগুলোও বদলে গেল 
আমি কেবল উদ্বাস্তুই থেকে গেলাম

প্লাস্টিকের ব্যাংক থেকে আমার কাছে এখনো নোট আসে আগের মতোই
এলোমেলো সেসব নোটে হাজার টাকা হয়, লাখ লাখ হয় না
হবেই বা কেন? লাখপতি-কোটিপতিরা নাকি কারাগারে যান, ছেড়ে যান মাতৃভূমিও
আমার লাখ নেই কোটিও নেই
নেই  মাটি থেকে রূপ নেওয়া প্লাস্টিকের ব্যাংকও

তবে আমার একটা বন্ধু আছে
যার মাটি আর প্লাস্টিকের ব্যাংক আছে 
ওই ব্যাংকে বন্ধু ভালোবাসা জমায় আমার জন্য 
ব্যাংকে জমা থাকায় ওর ভালেবাসা হারায় না
পানিতে ভাসে না, বাতাসেও ওড়ে না, কেবল আমাকে ছুঁয়ে যায়