মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সব কটিই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গভীর রাতে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
নীতিতে বদল: রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে শেখারচি বলেন, ওই সংঘাতের পর ইরান তার দীর্ঘদিনের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক নীতি পরিবর্তন করে ‘আক্রমণাত্মক’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আগে আক্রমণ করেনি। কিন্তু এখন আমাদের নীতি হলো—কেউ হামলা চালালে তাকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমরা ছাড়ব না।’
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন শর্ত
জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দিয়েছেন এই জেনারেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না।’ যুদ্ধ শেষ হলেও এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নতুন শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মেনে চলতে হবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শোষক’ আখ্যা দিয়ে শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তবে এর চরম পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে।’
পাল্টা বক্তব্য মেলেনি ওয়াশিংটনের
ইরানের পক্ষ থেকে ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংসের এমন বড় দাবি করা হলেও, ওয়াশিংটন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাবি যদি আংশিক সত্যও হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের জন্য এক বিশাল চপেটাঘাত।