রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় একটি বাগানের প্রায় ২০০টি ফলনশীল কলাগাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যাতে তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ফলনশীল কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সালে আহমদ (৫০) অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে জমি নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। তাঁর কেনা সাড়ে ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ ওই প্রতিবেশী জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এই বিরোধের জেরে গত ২৩ মার্চ শিবপুর বাজারে তাঁকে মারধরও করা হয়।
সালে আহমদ জানান, গত ২৪ মার্চ রাতে তাঁর বাগান থেকে ৯টি কলার ছড়া চুরি হয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করেন। এর দুদিন পরই রাতের আঁধারে পুরো বাগান কেটে ফেলা হলো। তিনি বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এই অবলা গাছগুলোর সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা?’
স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, ‘কারা এই কাজ করেছে তা নিশ্চিত না হলেও এটি একটি জঘন্য অপরাধ। একজন কৃষকের এভাবে ক্ষতি করা মেনে নেওয়া যায় না।’ এলাকায় এ নিয়ে বর্তমানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ভুক্তভোগী কৃষকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’