২৭ মার্চ, ২০২৬

একই কবরস্থানে পাশপাশি কবরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে মুফতি মমিনের দাফন

একই কবরস্থানে পাশপাশি কবরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে মুফতি মমিনের দাফন

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে সময় লেগেছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কুমিল্লার সড়কে প্রাণ হারালেন ঢাকার জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আব্দুল মমিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে এক সারিতে দাফন করা হয়েছে পরিবারের এই চার সদস্যকে।

একই কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরের দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন জানাজায় আসা হাজারো মানুষ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের আকাশ-বাতাস।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুফতি আব্দুল মমিন সপরিবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত গাড়িতে (প্রাইভেটকার) করে ঢাকা ফিরছিলেন। কুমিল্লার মিয়ামি হোটেল এলাকায় পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাঁদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মুফতি মমিন, তাঁর স্ত্রী ঝরনা বেগম, ছেলে সাঈদ আশরাদ ও মেয়ে লাবিবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

বেঁচে আছে শুধু ১২ বছরের আবরার
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে মুফতি মমিনের বড় ছেলে আবরার (১২)। তবে চোখের সামনে মা-বাবা আর ভাইবোনকে হারানোর ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারছে না সে। বর্তমানে সে নানাবাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। স্বজনরা জানান, নির্বাক আবরার শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে, যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তার সাজানো পৃথিবীটা এভাবে তছনছ হয়ে গেছে।

প্রশাসনের সহায়তা
শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামে মুফতি মমিনের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে স্থানীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজায় ঢল নামে মানুষের।

খবর পেয়ে নিহতের স্বজনদের বাড়ি পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দাফনকাজের জন্য তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নিহতদের স্বজনরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।