ভোর ৪টা ৫৫ মিনিট। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে মন্ত্র। পুণ্যতোয়া ব্রহ্মপুত্রের শীতল জলে অবগাহন করে পাপমুক্তির আশায় সমবেত হয়েছেন কয়েক লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বী। আজ বৃহস্পতিবার চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই তিথিতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও মেলা।
প্রস্তুতির কোনো কমতি নেই
উপজেলার জোড়গাছ পুরাতন বাজার এলাকা থেকে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্নানঘাট নির্ধারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ঘাটে কাপড় পরিবর্তনের জন্য ৫০টি বুথ, বিশুদ্ধ পানির জন্য ৩০টি নলকূপ এবং অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র তীরে বসেছে বিশাল মেলা।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থী
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে পিকআপ ভ্যানে আসা অনিল চন্দ্র বলেন, "প্রতি বছরই আমরা এই তিথিতে ব্রহ্মপুত্রে আসি। রাতে তাবু খাটিয়ে রান্না করি, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয়। এটা আমাদের কাছে এক বড় মিলনমেলা।" শুধু কুড়িগ্রাম নয়, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ বুধবার রাত থেকেই ঘাটে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় স্কুল-কলেজ এবং মুসলিম প্রতিবেশীদের বাড়িতেও অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন।
লগ্ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্নান উৎসব কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে স্নানের লগ্ন শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। তবে দিনব্যাপী স্নান ও মেলা চলবে। স্নান উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও রমনা ইউপি সদস্য কুকিল চন্দ্র জানান, এ বছর প্রায় দুই লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “অষ্টমীর পুণ্যস্নান সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।”