হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইরান সব ধরনের ‘রেড লাইন’ বা সীমা অতিক্রম করেছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জরুরি বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই এ মন্তব্য করেন।
সমুদ্র আইন লঙ্ঘন ও জাহাজ অপহরণ
আল-বুদাইউই অভিযোগ করেন, ইরান আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবৈধভাবে শুল্ক আরোপ করেছে, যা সরাসরি আগ্রাসনের শামিল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু জাহাজ অপহরণ ও হামলার শিকার হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ব অর্থনীতির ‘ফুসফুসে’ আঘাত
জিসিসি মহাসচিবের মতে, সদস্য দেশগুলোর তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, “জিসিসিভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের ‘অর্থনৈতিক ফুসফুস’। আমরা প্রতিদিন ১৬ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করি, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো মানে পুরো বিশ্বকে সংকটে ফেলা।”
তিনি আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরব ও কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে চালানো হচ্ছে।
সামরিক অভিযানে থাকছে না জিসিসি
তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে থাকলেও জিসিসি এখনই সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। মহাসচিব পরিষ্কার জানিয়েছেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে (ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায়) ব্যবহারের সুযোগও দেবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এতদিন সংযম দেখিয়েছি এবং কূটনৈতিক সমাধান চেয়েছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ইরান ও জিসিসি দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।”