ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গুটিয়ে নিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন যে তিনি ইরানে কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াতে ইচ্ছুক নন। বরং আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযানের ‘চূড়ান্ত সমাপ্তি’ দেখতে চান তিনি।
ঘরোয়া অর্থনীতিতে নজর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের যুদ্ধের ইতি টানার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, এই সংঘাত তাঁকে অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজ থেকে বিচ্যুত করছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভেবেই ট্রাম্প এখন অর্থনীতির ওপর জোর দিতে চাইছেন।
মে মাসে চীন সফর
হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রস্তুতি চলছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার আগেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা থেকে মুক্ত হতে চান। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই ইরান পরিস্থিতির একটি ফয়সালা করতে মার্কিন প্রশাসন সব ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল প্রয়োগ করবে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হন। হোয়াইট হাউসের দাবি ছিল, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি রুখতেই এই ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।
পাল্টা হামলার মুখে মার্কিন ঘাঁটি
তবে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এই হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে। বিশেষ করে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন ইরানের নিশানায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিলেও তেহরানের পাল্টা জবাব এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান এই প্রক্রিয়াকে কতটা মসৃণ হতে দেবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।