ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দুই গোষ্ঠীর আধিপত্যের লড়াই এখন এক বিষাদময় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। পূর্ব বিরোধের জেরে লাগা আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজুল ইসলাম (৫০) নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনের সংঘাতের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
মৃত্যুর মিছিলে মাহফুজুল
গতকাল মঙ্গলবার দিনভর চলা রণক্ষেত্রে গুরুতর আহত হয়েছিলেন শিমের কান্দি গ্রামের কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর সন্তান মাহফুজুল ইসলাম। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আজ বিকেল ৫টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। এর আগে গতকাল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ (৩৮) ও আক্তার মিয়া (৫৫)।
এক সংঘর্ষ, ১০ গ্রাম রণক্ষেত্র
স্থানীয়রা জানান, রহিম তালুকদার ও কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ মঙ্গলবার সকালে এক ভয়াবহ রূপ নেয়। দেখতে দেখতে এই সংঘাত উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় মুহূর্তেই এলাকাগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার ২০
সহিংসতা দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গত রাত থেকে চলা বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নাসিরনগর থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের হত্যা ও দাঙ্গা হাঙ্গামার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে নাসিরনগরের ওই এলাকাগুলোতে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রামজুড়ে পুরুষশূন্য ঘরবাড়ি আর স্বজনহারাদের আর্তনাদ। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রতিটি মোড়ে ও স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ঘটনার মূল হোতা এবং জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে।