পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি আজ রণসজ্জার প্রস্তুতিতে উত্তপ্ত। বিশ্ব রাজনীতিতে বইছে অস্থিরতার ঝড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং ইরানের পাল্টা ‘স্থায়ী ধ্বংসের’ হুমকির মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
ট্রাম্পের রণহুঙ্কার ও সাময়িক বিরতি গত শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে এক নাটকীয় মোড়ে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি আগামী পাঁচ দিনের জন্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখছেন।
তেহরানের কড়া জবাব: ‘আলোচনা হয়নি’ ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও ইরান তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং ট্রাম্পের এই পাঁচ দিনের বিরতিকে তারা সামরিক প্রস্তুতির সময়ক্ষেপণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের একটি ‘কৌশল’ হিসেবে দেখছে।
হরমুজ প্রণালি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ’ মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে—ট্রাম্পের উস্কানিতে পা দিলে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে হয়তো ‘বিদ্যুৎকে চিরতরে বিদায়’ জানাতে হবে।
অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেবে। এই ঘোষণা কার্যকর হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।