ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু সিদ্ধান্ত ইতিহাস হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সেই 'টাইমড আউট' হওয়ার ঘটনা কি ভোলা সম্ভব? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেই বিরল আউটের সংকেত দিয়েছিলেন যিনি, সেই মারাইস এরাসমাস আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আম্পায়ারিংকে বিদায় জানালেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘প্রোভিনশাল ওয়ানডে চ্যালেঞ্জ’-এর বোলান্ড ও লায়ন্স ম্যাচটি দিয়েই নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৬২ বছর বয়সী এই আম্পায়ার।
সাকিব-ম্যাথুস ও সেই ‘টাইমড আউট’
২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে লঙ্কান ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে আউট ঘোষণা করেছিলেন এরাসমাস। সেই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। মাঠের সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এরাসমাসের শান্ত ও অবিচল ভঙ্গি আবারও প্রমাণ করেছিল কেন তিনি আইসিসির এলিট প্যানেলের অন্যতম সেরা ছিলেন।
এক নজরে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
২০০০ সালে ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে শুরু করা এরাসমাস সময়ের পরিক্রমায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান যে কাউকে মুগ্ধ করবে:
টেস্ট ম্যাচ: ৮২টি
ওয়ানডে: ১২৫টি
টি-টোয়েন্টি: ৬১টি
আইসিসি বর্ষসেরা আম্পায়ার: ৩ বার (২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১)
অ্যাশেজের ১৬টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করা ছাড়াও ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে ৭ বার মাঠের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপের মহানাটকীয় ফাইনালটিরও অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান।
পরের অধ্যায়: ভ্রমণ ও মেন্টরিং
বিদায়বেলায় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে এরাসমাস জানিয়েছেন তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনার কথা। মে মাসে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক আর জুনে ইতালি ভ্রমণে যাবেন স্ত্রীকে নিয়ে। তবে ক্রিকেটের মায়া একদম কাটিয়ে ফেলছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় তরুণ আম্পায়ারদের মেন্টর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। এ বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া তাঁর আত্মজীবনীতে উঠে আসবে গত দুই দশকের ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক অজানা গল্প।
মারাইস এরাসমাস আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ছেড়েছিলেন আগেই, নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ছিল তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট। আজ ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে চিরদিনের মতো মাঠের সেই সাদা হ্যাট আর আঙুল তোলার দৃশ্যটি স্মৃতি হয়ে গেল।