২১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এবার ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এবার ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ‘ডিয়েগো গার্সিয়া’ লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম) নিক্ষেপ করেছে ইরান। শনিবার (২১ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান জানান দিল যে তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে যুদ্ধের এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় হিসেবে দেখছেন।

যেভাবে হলো হামলা
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করে মোট দুটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের কিছু সময় পর মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে ওই ইন্টারসেপ্টরটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে সফলভাবে ধ্বংস করতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

পাল্লা নিয়ে ইরানের লুকোচুরি
ইরান থেকে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ৫ হাজার ২৫০ কিলোমিটার। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, গত ৮ মার্চ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ডিয়েগো গার্সিয়ায় এই হামলার চেষ্টা প্রমাণ করল যে ইরান এখন তাদের ঘোষিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি দূরত্বে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

কেন ডিয়েগো গার্সিয়া গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশশাসিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের এই অংশটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি কেন্দ্র। এখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বি-২, বি-১ এবং বি-৫২ এর মতো দূরপাল্লার পারমাণবিক বোমারু বিমান ও সাবমেরিন পরিচালনা করে। এর আগে ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অগ্রবর্তী ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করেছিল।

আঞ্চলিক উদ্বেগের নতুন কারণ
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সংগ্রহে থাকা ‘শাহাব-৩’, ‘খোররামশাহর’ এবং হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন যে কোনো সময় এশিয়ার বিশাল অংশ ও ইউরোপের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে পারে। এর আগে গত ১৬ জুন ইরান ইসরায়েলের দিকে ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সেজিল-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ডিয়েগো গার্সিয়ায় এই হামলার চেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি কড়া সতর্কতা দেওয়া। ইরান সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে, তাদের ওপর কোনো বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হলে তার পাল্টা জবাব হবে সুদূরপ্রসারী ও নজিরবিহীন। এই হামলার ঘটনা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, টাইমস অফ ইসরায়েল