১৯ মার্চ, ২০২৬

ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সার গোল উৎসব: নিউক্যাসলকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জাভির দল

ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সার গোল উৎসব: নিউক্যাসলকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জাভির দল

ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে যেন গোলবন্যার জোয়ার বইয়ে দিল বার্সেলোনা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ করেছে কাতালানরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দাপটের সঙ্গেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল জাভি হারনান্দেজের শিষ্যরা।

পুরো ম্যাচে বার্সার হয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও রবার্ট লেভানডফস্কি। তবে গোলের উৎসবের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে লেভানডফস্কি ও তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের গড়া নতুন দুটি বিশ্বরেকর্ড।

প্রথমার্ধের নাটকীয়তা
সেন্ট জেমস পার্কে প্রথম লেগ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ফিরতি লেগের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধেই দুই দল মিলে গোল করে ৫টি। বার্সার হয়ে রাফিনিয়া ও মার্ক বার্নাল জালের দেখা পেলেও নিউক্যাসলের অ্যান্থনি এলাঙ্গা জোড়া গোল করে দুবার ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।

দ্বিতীয়র্ধে বার্সা-ঝড়
বিরতির পর ক্যাম্প ন্যু দেখল সম্পূর্ণ অন্য এক বার্সেলোনাকে। মাত্র ২১ মিনিটের ব্যবধানে নিউক্যাসলের রক্ষণভাগ তছনছ করে দিয়ে আরও ৪টি গোল আদায় করে নেয় তারা। ৫১ মিনিটে ফারমিন লোপেজ ব্যবধান বাড়ানোর পর ৫৬ ও ৬১ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন লেভানডফস্কি। এরপর ৭২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া।

রেকর্ডের পাতায় লেভা ও ইয়ামাল
এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে রবার্ট লেভানডফস্কি কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ ৪১টি আলাদা দলের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ড পোলিশ এই স্ট্রাইকারের।

অন্যদিকে, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ১০টি গোল করার রেকর্ড এখন এই স্প্যানিশ কিশোরের দখলে।

পরিসংখ্যানের পাতায় বার্সা
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে বায়ার্ন মিউনিখের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নিউক্যাসলের জালে ৭ গোল দেওয়ার কৃতিত্ব দেখাল বার্সা। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এমন বড় জয় পেয়েছিল কাতালানরা।

নিউক্যাসলকে বিদায় করে দিয়ে এখন ইউরোপসেরার মঞ্চে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন আরও জোরালো করল জাভির দল।