সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে ওই বৃদ্ধার হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা কাঞ্চন মালা। তাঁর মেয়ে বলেন, ‘মায়ের নিজের কোনো ঘর ছিল না। ছেলের বাড়িতে ভাঙা ঘরে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট করতেন। আজ থেকে মা অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।’
যেভাবে শুরু
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ আগস্ট কাঞ্চন মালাকে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে এলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তখন ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাঁর থাকার মতো কোনো ঘর ছিল না। জরাজীর্ণ সেই ঘর দেখে তখনই তাঁকে একটি স্থায়ী ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ
জেলা প্রশাসকের বিশেষ টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার জন্য এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটি তাঁর মেয়ের বাড়ির আঙিনায় তৈরি করা হয়েছে যাতে শেষ বয়সে তিনি আপনজনের সান্নিধ্যে থাকতে পারেন।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘বৃদ্ধা মায়ের ওপর নির্যাতনের খবরটি পাওয়ার পরই আমি ঘটনাস্থলে যাই। তখন তাঁর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, তাঁর জন্য নিরাপদ একটি আশ্রয় প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই স্থায়ীভাবে এই ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে তিনি সম্মানের সঙ্গে নিজের ঘরে থাকতে পারবেন।’
ঘর হস্তান্তরকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেন ও ধোপাদহ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ ছানা প্রমুখ।