নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে রেগুলেটর না থাকার কারণে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুতই একনেক সভায় নতুন রেগুলেটর নির্মাণের প্রকল্পটি পাস করা হবে।
ভাঙন ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত উপকূল
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় নদী ভাঙন ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয়দের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "রেগুলেটর না থাকায় নদীর দুই দিকই সমানতালে ভাঙছে। আমরা পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।"
‘নোয়াখালীবাসীর জীবন-মরণের সমস্যা’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "মুছাপুর রেগুলেটর কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি পুরো নোয়াখালীর অস্তিত্বের প্রশ্ন। খোদ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। নোয়াখালীকে বাঁচাতে হলে এই রেগুলেটর নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।"
৮৯৬ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প
সরকার ভাঙন প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। একনেক সভায় অনুমোদন পেলেই দ্রুত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মিত ২৩ ভেন্টের এই রেগুলেটরটি দীর্ঘদিন উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন করে আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণ হলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে কোম্পানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ।
পরিদর্শনকালে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।