১৩ মার্চ, ২০২৬

শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমজান: বন্ধুদের সঙ্গেই আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমজান: বন্ধুদের সঙ্গেই আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

ছুটির আমেজ ছড়িয়েছে অনেক আগেই, ক্যাম্পাস এখন জনশূন্য—অথচ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) চিত্রটা যেন ভিন্ন। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি শুরু হলেও, রমজানের পবিত্রতা ও বন্ধুত্বের টানে ক্যাম্পাসের মায়া কাটিয়ে বাড়ি ফেরা হয়নি অনেক শিক্ষার্থীর। পরিবারের সান্নিধ্য না থাকলেও ক্যাম্পাসের অলিগলিতে এখন বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মিশে কাটছে আনন্দঘন রমজান।

বন্ধুদের সঙ্গেই অকৃত্রিম আনন্দ
ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ড, প্রশাসনিক ভবনের সামনের মাঠ কিংবা নিউমার্কেটের চেনা কোলাহল—সবখানেই এখন ইফতারের প্রস্তুতি। পরিবারের ডাইনিং টেবিলের পরিপাটি আয়োজনের চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মাদুর পেতে গোল হয়ে বসা আর ভাগ করে ইফতার করার আনন্দই যেন শিক্ষার্থীদের কাছে এখন বেশি প্রিয়।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিবারের অনুপস্থিতি বন্ধুদের সান্নিধ্যে অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে। তিনি বলেন, "এখানে সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে যে সময় কাটছে, তাতে বাড়ির কথা একরকম ভুলেই গেছি। রমজানের এই আনন্দ যেন এখানেই খুঁজে পাচ্ছি।"

শিক্ষাজীবনের সোনালি স্মৃতি
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন ইসলাম ক্যাম্পাসের এই রমজানকে দেখছেন জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিকথা হিসেবে। তাঁর ভাষায়, "শূন্য ক্যাম্পাস হলেও রমজানের ছোঁয়ায় এখানে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাত জেগে বন্ধুদের সঙ্গে সেহরির অপেক্ষা আর নিউমার্কেটে ছোটাছুটি—এই স্মৃতিগুলোই ক্যাম্পাসের দিনগুলোকে রঙিন করে তোলে।"

কেন এখনো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা?
টানা ৪৫ দিনের দীর্ঘ ছুটির বিপরীতে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বহুমুখী কারণ। কেউ টিউশনি সামলাচ্ছেন, কেউ আবার সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য থেকে গেছেন। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার ও সেহরির সময় কাটানোর সুযোগ। ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও ইসলামী সংগীতের আসরগুলো ক্যাম্পাসের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত। বিশেষ করে, এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্প্রীতির এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিদায়লগ্নের আবেগ
অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে যারা শেষ বর্ষের পথে, তারা এই রমজানকে দেখছেন ক্যাম্পাস জীবনের শেষ রোজা হিসেবে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাওলাদার বলেন, "বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করার এই সুযোগ বারবার আসবে না। এই দিনগুলো আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।"

গোবিপ্রবির এই শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ক্লাস-পরীক্ষার জায়গা নয়, বরং এটি বন্ধুত্বের এমন এক আধার, যা সময়ের স্রোতে মানুষকে নস্টালজিক করে রাখে। ঈদের দু-এক দিন আগে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও, এই ‘শূন্য ক্যাম্পাসের পূর্ণতার রমজান’ তাদের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী অম্লান স্মৃতি হয়ে থাকবে।