গ্রামীণ ঐতিহ্য, হারিয়ে যেতে বসা সামগ্রী এবং পরিবেশ-বান্ধব জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের ধুমঘাটে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী মেলা। ‘শাক, লতা-পাতা ও বিলুপ্তপ্রায় সামগ্রীর মেলা’ নামের এই আয়োজনটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মেলার মূল আকর্ষণ
বেসরকারি সংস্থা বারসিক-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এই মেলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনচর্চা ও পরিবেশের সঙ্গে তাদের অভিযোজনের নানা দিক প্রদর্শিত হয়েছে। মেলায় মোট ১৩টি স্টলে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছিল বৈচিত্র্যময় সব সংগ্রহ:
বীজ ও শস্য: চার শতাধিক দেশি জাতের ধান ও চাল এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশি সবজির বীজের সম্ভার।
ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, মাটির তৈরি তৈজসপত্র এবং প্রাচীন কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি।
জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতি: উপকূলীয় অঞ্চলের মাছ ধরার সরঞ্জাম, বনজীবী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহার্য সামগ্রী এবং স্থানীয় শাক-লতা।
সচেতনতামূলক প্রদর্শন: হাতে আঁকা চিত্র ও দেয়ালিকার মাধ্যমে জলবায়ু ও পরিবেশ সংকট, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "এ ধরনের মেলা আমাদের শেকড়কে চেনার সুযোগ করে দেয়। আধুনিকতার ভিড়ে আমরা যে নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিবেশ-বান্ধব জ্ঞান হারিয়ে ফেলছি, তা রক্ষায় এটি একটি মাইলফলক।"
বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ এই আয়োজনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দেশি বীজ ও হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী সংরক্ষণ করা কেবল অতীতকে ধরে রাখা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই জীবন নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম।
সাংস্কৃতিক আবহ
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল জারি-সারি গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়াও শিক্ষার্থী, নারী সংগঠন এবং স্থানীয় যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও দেয়ালিকা প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া নতুন প্রজন্মের আগ্রহ ছিল দেখার মতো।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এমন উদ্যোগ গ্রহণ করলে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ আরও সচেতন হয়ে উঠবে।