৬ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামাজনের ডাটা সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলা, বিপর্যস্ত ডিজিটাল সেবা

মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামাজনের ডাটা সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলা, বিপর্যস্ত ডিজিটাল সেবা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন এক উদ্বেগজনক মোড় হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS)-এর ডাটা সেন্টারগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলা পরিচালনা করেছে।

হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা
গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত অ্যামাজনের দুটি ডাটা সেন্টারে সরাসরি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের আরেকটি স্থাপনার খুব কাছাকাছি ড্রোন হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:

অবকাঠামোগত ক্ষতি: ড্রোন হামলার সরাসরি আঘাতে স্থাপনাগুলোর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

সেবা বিঘ্ন: বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় ডাটা সেন্টারগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

অগ্নি নির্বাপণজনিত সমস্যা: হামলার পর সৃষ্ট আগুন নেভানোর কাজে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের ফলে সার্ভার এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ডিজিটাল সরঞ্জামের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি ও লক্ষ্যবস্তু
ইরানের আইআরজিসির দাবি, এই ডাটা সেন্টারগুলো তাদের প্রতিপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) কর্তৃক সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা করছিল। তাই তেহরানের শত্রুপক্ষের তথ্য ও প্রযুক্তি অবকাঠামো দুর্বল করতেই এগুলোকে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ
এই ঘটনাটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন রণকৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডিজিটাল সেবার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত বড় কোনো বাণিজ্যিক ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টার সরাসরি সামরিক হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা এটিই সম্ভবত প্রথম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অ্যামাজনের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাপ্লাই চেইন ঝুঁকির ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

পরবর্তী পরিস্থিতি
হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সরকারি ডিজিটাল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অ্যামাজন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ডাটা ও ওয়ার্কলোড বিকল্প অঞ্চলে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্বার্থ ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।