দিনাজপুরের বিরল উপজেলা কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য লোড-আনলোড বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে শ্রমিকরা। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে বিরল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান (ভোলা) জানান, বিরল উপজেলা কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং রাজ-১৩৪৩) সদস্যদের ওপর ৪নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের খোদশিবপুর গ্রামে একদল সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল প্রকার পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করে মাঠে নামতে বাধ্য হবে।"
জরুরি পণ্যের বিষয়ে শিথিলতা
কাঁচামাল ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক জানান, "মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আমরা কাজ করি। তবে মাছ, মুরগি, ফলমূল এবং প্রাণী খাদ্যের মতো জরুরি ও পচনশীল পণ্য লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
বর্তমান পরিস্থিতি
ধর্মঘটের ফলে বিরল উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন আটকা পড়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।