৬ মার্চ, ২০২৬

নোয়াখালীতে ১১৩ কেজির নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ ও বিনষ্ট

নোয়াখালীতে ১১৩ কেজির নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ ও বিনষ্ট

নোয়াখালী নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি মাছের আড়তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১৩ কেজি ওজনের একটি নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ (স্টিংরে) জব্দ করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সোনাপুর বাজারের একটি আড়ত থেকে মাছটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে জনসমক্ষে বিনষ্ট করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিবরণ
উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিলের নির্দেশনায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সোনাপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদ ছিল যে, এক ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশ্যে বিশাল আকৃতির একটি শাপলাপাতা মাছ আড়তে নিয়ে এসেছেন।

বন বিভাগের টিম যখন আড়তে পৌঁছায়, তখন মাছটি মাঝখান দিয়ে কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আড়ত মালিক দ্রুত পালিয়ে যান। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশগত গুরুত্ব ও আইনি বাধা
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শাপলাপাতা মাছ বাংলাদেশের জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সাধারণত নদী ও সাগরের তলদেশে বাস করে ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী খেয়ে খাদ্যচক্র সচল রাখে। অতিরিক্ত শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এই প্রজাতিটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী:

শাপলাপাতা মাছ শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই প্রাণীর ক্রয়-বিক্রয়, মজুত বা পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য
অভিযান শেষে নোয়াখালী জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল বলেন, "বন্য প্রাণী রক্ষায় আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আইন অনুযায়ী এই মাছ কেনাবেচা নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা এটি জব্দ করে বিনষ্ট করেছি। বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমাদের এই ধরনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।"

পরে জব্দকৃত মাছটি বন বিভাগের উপকূলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।