২ মার্চ, ২০২৬

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের মিসাইল হামলা

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের মিসাইল হামলা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করে শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে।

হামলার বিস্তারিত:
ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'খাইবার' (Kheibar) ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এটি তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তরে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে।"

বর্তমান পরিস্থিতি:
নেতানিয়াহুর অবস্থান: হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কার্যালয়ে ছিলেন কি না বা তার বর্তমান অবস্থা কী, সে সম্পর্কে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তার ভাগ্য এখন 'অনিশ্চিত'।

ক্ষয়ক্ষতি: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া বেশ কিছু মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে। তবে জেরুজালেম এবং তেল আবিবসহ বেশ কিছু এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু: নেতানিয়াহুর কার্যালয় ছাড়াও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর প্রধান তোমের বারের অবস্থানস্থলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এবং 'রোয়ারিং লায়ন' শুরু করে। এর ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অসমর্থিত দাবি শোনা যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইরান গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় শত শত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

বিশ্ব প্রতিক্রিয়া:
জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে "পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ" হিসেবে বর্ণনা করে উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।