২ মার্চ, ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা

লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা

লেবাননভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে দেশটিতে পাল্টা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। আজ সোমবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই আক্রমণ চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আল-জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও ইসরায়েলি অবস্থান
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের রকেট হামলার পর তারা ‘লেবাননজুড়ে’ গোষ্ঠীটির ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, "হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই হামলার কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।"

বৈরুতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি (দাহিয়েহ) এলাকাটি আজ মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর পাল্টা দাবি
এর আগে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তারা এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে।

আঞ্চলিক সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর এই সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাকে এক নতুন এবং ভয়াবহ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সংঘাত যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে তা পুরো অঞ্চলে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।