১ মার্চ, ২০২৬

সোমবার তেলবাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা, ব্যারেলপ্রতি বাড়তে পারে ২০ ডলার

সোমবার তেলবাজারে বড় ধাক্কার শঙ্কা, ব্যারেলপ্রতি বাড়তে পারে ২০ ডলার

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সমন্বিত সামরিক অভিযানের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড–এর দাম সোমবার থেকেই বড় লাফ দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার পরপরই ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম কমপক্ষে ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ভয়াবহ বিঘ্ন। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হতো, যা বর্তমানে কার্যত বন্ধের মুখে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বিকল্প পাইপলাইন ও অবকাঠামো ব্যবহার করে আংশিক সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করছে, তবুও প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে রাইস্ট্যাড এনার্জি।

প্রতিবেদনটিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি রোববার (১ মার্চ) বিকেলের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনো দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখা না যায়, তাহলে সোমবার সকালেই তেলবাজারে বড় ধরনের মূল্যঝাঁকুনি আসতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট প্রশমনের তেমন কোনো লক্ষণও চোখে পড়ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার বেড়ে গেলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।