কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এক শতক জমি কিংবা এক টাকাও দান না করা ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য দেখিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি এই তদন্ত করে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান গোপন ও অনিয়মতান্ত্রীক মাদ্রাসা কমিটি বাতিলের দাবিতে মাদ্রাসা বোর্ডে নির্ধারিত ফি সহ অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।
অভিযোগে জানা যায়,বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড-এর (গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা,২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে হলে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৬ লাখ টাকা নগদ বা চেকের মাধ্যমে,অথবা সমমূল্যের স্থাবর সম্পত্তি রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে মাদ্রাসার অনুকূলে দান করতে হয়।
একই প্রবিধান অনুযায়ী মহানগরের বাইরে কোনো মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৮০ দিন আগে ব্যাংক হিসাবে এককালীন ২০ হাজার টাকা দান করলে দাতা সদস্য এবং ১ লাখ টাকা দান করলে আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল হোসেন ওই মাদ্রাসায় এসব শর্ত পূরণ করেননি এমন ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য দেখিয়ে কমিটি গঠন করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাদী আসাদুজ্জামান অভিযোগ,যথাযথ প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ওই মাদ্রাসায় ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়। জমি বা অর্থ দান না করা ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য দেখিয়ে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা হয়েছে।
এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কৃত এক ব্যক্তিকে সভাপতি করায় তিনি কমিটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যদিকে,সরকারি কোনো লিজ বা অনুমতি ছাড়াই খাস জমিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি দেখিয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে রাজারহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট জমির ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা,থানা অফিসার ইনচার্জ,উপজেলা আইসিটি অফিসার এবং উপজেলা সুপার ভাইজারকে নিয়ে গঠিত ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাদী- বিবাদীপক্ষের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য,অডিও-ভিডিও রেকর্ড,দাখিলকৃত নথিপত্র এবং সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি; এতে মাদ্রাসা সুপার ও প্রস্তাবিত কমিটি দায় এড়াতে পারেন না।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি মাদ্রাসা সুপার আবুল হোসেন। তবে তার বক্তব্য তিনি তদন্ত কমিটিকে দিয়েছেন বলে জানান। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনসুর আহমেদ স্বীকার করেন,তিনি প্রতিষ্ঠাকালে চেয়ার-টেবিল
দিলেও জমি বা টাকা দান করেননি। দাতা সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন,ওই মহিলা মাদ্রাসায় আগের কমিটির সবাই ব্যবসা করে খেয়েছে, এখনো সুপার ব্যবসা করে খাচ্ছে। মাদ্রাসায় ভোট হয়েছে কিনা তারাই জানে। তবে জমি বা টাকা প্রদান না করলেও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা কালীন সময়েও তাকে দাতা রাখা হয়েছিল বলে জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউকে প্রতিষ্ঠাতা বা দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রমাণ মিললে সেই কমিটি আইনগতভাবে বৈধ হয় না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান জানান,“ক্রটি যতটুকুই হোক তা ক্রুটি,তদন্ত কমিটি যা প্রমাণ পেয়েছে তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। মুঠোফোনে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক বলেন,
তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা হয়নি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।