হাটের ইজারাদারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলার বীর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদা দাবির ঘটনায় শুক্রবার রাতে ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু যুবদলের ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে দল থেকে বহিস্কার করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় নাটোর জেলা যুবদল। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুও একই ইউনিয়নের মৎসজীবি দলের সাবেক সহ সভাপতি। দুজনেই বিএনপির নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের অনুসারি।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে হাট-বাজার ইজারা দিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। তারা দুজনেই হাট-বাজার ইজারায় উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে ছিলেন। ১৪ হাজার টাকা মূল্যের হাটটি সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকায় ইজারা পান তপু। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইজারা শেষে পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেন। ঘটনার পর গত শুক্রবার চাঁদা দাবি ও হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়- গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের নিচতলায় যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা গালমন্দ করতে করতে ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুর দিকে তেড়ে এসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ সময় গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিজ্জামানের পাশে চন্দ্রপুর তুলোধুনা হাটের ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপসহ ৮ থেকে ১০ জন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে রাকিবুর রহমান রাজা হাত উঁচিয়ে ওবায়দুল ইসলামের দিকে তেড়ে এসে টাকা না দিলে তাঁকে (তপু) হাত-পা ভেঙে মাটিতে শুইয়ে ফেলবেন বলে হুংকার দেন। তিনি গালাগাল করতে থাকলে ওসি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোজার দিন, আপনারা এখন চলে যান।’
এ ঘটনায় ‘ইজারাদারের কাছে যুবদল নেতার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ওসির সামনে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এলে যুবদলের ওই নেতাকে বহিস্কারের পর গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই বহিস্কারাদেশে বলা হয়- ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকায় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কার করা হলো। বহিস্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল গ্রহণ করবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। পাশাপাশি, নাটোর জেলা যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় না রাখার জন্য বলা হয়।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের পর তার সামনেই যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা ইজারাদারকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে ভুক্তভোগি ওবায়দুল তপু মামলা দায়ের করেন। শনিবার অভিযান চালিয়ে রাকিবুর রহমান রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।