২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তেহরানে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের পদধ্বনি

তেহরানে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের পদধ্বনি

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উত্তেজনা ও বাগযুদ্ধের পর অবশেষে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল ইসরায়েল ও ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামলার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
শনিবার ভোরে তেহরানের জমহৌরি এলাকা এবং প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একের পর এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার পরপরই পুরো শহর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই হামলাকে একটি "প্রি-emptive অ্যাটাক" বা আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দিকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতেই তারা এই সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইসরায়েলের সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা
হামলা শুরুর পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ (Israel Katz) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে আইডিএফ ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে বা বোম্ব শেল্টারের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এটি একটি সক্রিয় সতর্কতা যাতে সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা যায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের শঙ্কা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলের এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করা—সব মিলিয়ে এই অঞ্চল এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।