২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

১৭ বছর পর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষা, নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলা

১৭ বছর পর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষা, নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলা

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৯ সালের এই দিনে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো আপিল বিভাগে ঝুলে আছে এবং বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি।

হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা
পিলখানা হত্যা মামলাটি আসামির সংখ্যার দিক থেকে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম মামলা। এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন তৃতীয় তথা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে:

বিচারিক আদালত (২০১৩): ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট (২০১৭): ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালে এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

আপিল বিভাগ (বর্তমান): বর্তমানে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আপিল ও লিভ টু আপিলগুলো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় মামলাটি ৬৬৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল।

বিস্ফোরক মামলার দীর্ঘসূত্রতা
হত্যার ঘটনার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা অন্য মামলাটির বিচার গত ১৭ বছরেও শেষ হয়নি।

এই মামলায় মোট আসামি ৮৩৪ জন।

সাক্ষী রয়েছেন ১,৩৪৪ জন, যার মধ্যে গত ১৭ বছরে মাত্র ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার সংলগ্ন বিশেষ আদালতে এই মামলার বিচার কাজ চলছে। আগামী কাল (বৃহস্পতিবার) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন সিদ্ধান্ত
সরকার পরিবর্তনের পর পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান এক বাণীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর সরকারের।

বিডিআর থেকে বিজিবি: এক নজরে পরিবর্তন
২০০৯ সালের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পুরোপুরি পুনর্গঠিত করা হয়:

২০১০ সালে জাতীয় সংসদে 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল' পাস হয়।

২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে বাহিনীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ' (বিজিবি) করা হয়।

বিদ্রোহের দায়ে প্রশাসনিক ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ৮,৭৯৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মত: ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি এবং বিস্ফোরক মামলার বিচার শেষ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।