২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কলারোয়ায় মুরগির খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে দুই ভাই নিহত

কলারোয়ায় মুরগির খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে দুই ভাই নিহত

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় মুরগির খামারের দুর্গন্ধকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের ছলেমান শেখের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৮) ও তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৪০)। ইব্রাহিম এক সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে একটি মুরগির খামারের দুর্গন্ধ ছড়ানো নিয়ে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে দুই ভাই ইব্রাহিম ও রুহুল আমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে আরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ইব্রাহিম প্রাণ হারান।
গুরুতর আহত অবস্থায় রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কলারোয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ফারজানা রহমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ইব্রাহিমের স্ত্রী মেঘলা বলেন, "খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে প্রতিবাদ করায় আরিফুল ইসলাম আমার স্বামীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।"

পুলিশের পদক্ষেপ ও চারজন আটক ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত আরিফুলসহ একই পরিবারের চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। আটকরা হলেন:
১. আরিফুল ইসলাম (২৮)

২. সাথী আক্তার (২৫) - আরিফুলের স্ত্রী

৩. জামাল উদ্দিন (৬২) - আরিফুলের বাবা

৪. শাহানারা খাতুন (৫৫) - আরিফুলের মা

ওসি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।