২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তারেক রহমান ও খোমেনিসহ নির্বাসন ফেরত যেসব নেতা ফিরেছেন বীরের বেশে

তারেক রহমান ও খোমেনিসহ নির্বাসন ফেরত যেসব নেতা ফিরেছেন বীরের বেশে

রাজনীতিতে 'নির্বাসন' শব্দটির সঙ্গে দীর্ঘ দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর লড়াই জড়িয়ে থাকে। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, অনেক প্রভাবশালী নেতা রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে নিজ দেশ ছেড়ে দীর্ঘকাল প্রবাসে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তবে সময় বদলেছে, আর তারা নিজ দেশে ফিরেছেন বীরের বেশে, গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার লাগাম। বর্তমানে বাংলাদেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে এমন কয়েকজন আলোচিত নেতার ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় আসছে।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (ইরান)
নির্বাসন ফেরত নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ হলেন ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি। শাহ সরকারের বিরোধিতার দায়ে ১৫ বছর তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে যখন তিনি ফ্রান্সে থেকে তেহরানে নামেন, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষের জনস্রোত তাকে বরণ করে নেয়। ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আসীন হন।

তারেক রহমান (বাংলাদেশ)
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে তারেক রহমান এক আলোচিত নাম। ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর সেখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের পর তার দেশে ফেরার আলোচনা এখন তুঙ্গে। দলের তৃণমূল ও সমর্থকদের কাছে তিনি এখন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। নির্বাসিত থেকেও ভার্চুয়ালি দলকে সুসংগঠিত করে তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

বেনজির ভুট্টো (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে দীর্ঘ সময় লন্ডন ও দুবাইতে নির্বাসিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে যখন তিনি লাহোর বিমানবন্দরে নামেন, তখন পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ তাকে স্বাগত জানায়। ১৯৮৮ সালে তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন।

নেলসন ম্যান্ডেলা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
সরাসরি দেশের বাইরে না থাকলেও, ২৭ বছরের দীর্ঘ কারাজীবনকে রাজনৈতিক নির্বাসন হিসেবেই দেখা হয়। ১৯৯০ সালে শ্বেতাঙ্গ সরকারের কারাপ্রাচীর ভেঙে যখন তিনি মুক্ত হন, তখন তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার প্রতীক। ১৯৯৪ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসেন।

শার্ল দ্য গল (ফ্রান্স)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্স নাৎসিদের দখলে গেলে জেনারেল শার্ল দ্য গল লন্ডনে নির্বাসিত সরকার গঠন করেন। সেখান থেকেই তিনি ফরাসি প্রতিরোধের ডাক দেন। যুদ্ধ শেষে তিনি বীরের বেশে প্যারিসে ফেরেন এবং আধুনিক ফ্রান্সের স্থপতি ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন (রাশিয়া)
রুশ বিপ্লবের আগে লেনিনকে দীর্ঘকাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন ও নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে। ১৯১৭ সালে একটি সিলগালা করা ট্রেনে চড়ে তিনি রাশিয়ায় ফেরেন। তার প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বলশেভিক বিপ্লব সফল হয় এবং তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় বসেন।

বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাসন অনেক নেতার জন্য জনসমর্থন বাড়াতে 'শাপে বর' হিসেবে কাজ করে। দেশের মানুষের কাছে তারা ত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠেন, যা তাদের ফেরার পথকে মসৃণ করে এবং বীরের মর্যাদায় আসীন করে।