২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক চায় ভারত: পর্যালোচনায় সব ইস্যু

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক চায় ভারত: পর্যালোচনায় সব ইস্যু

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নে এবং একটি উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, নয়াদিল্লির লক্ষ্য হলো ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

ভিসা সহজ করার ইঙ্গিত
সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে ভিসার কড়াকড়ি তুলে দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা সম্পর্কের উন্নতির প্রথম ধাপ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল সরাসরি উত্তর না দিলেও বলেন, "বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে। সম্পর্কের উন্নতিতে সব বিষয় নিয়েই নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ভারত চায় দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বহুমুখী সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে।"

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা ও ওম বিড়লার সফর
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে ভারত একটি "গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক" বাংলাদেশ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় ভারত যে অঙ্গীকারবদ্ধ, সেটিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ওম বিড়লা ও তারেক রহমানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও জানান মুখপাত্র।

বিতর্ক এড়িয়ে সহযোগিতার পথে
বাংলাদেশে ভারতের মৌলবাদ নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে কোনো সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি রণধীর জয়সোয়াল। বরং তিনি সব বিতর্ক এড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির ওপর জোর দেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং সব দিক বিবেচনা করে এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা করছে।