১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নলতা শরীফে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইফতার মাহফিল: প্রতিদিন অংশ নিচ্ছেন ৬ হাজার মানুষ

নলতা শরীফে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইফতার মাহফিল: প্রতিদিন অংশ নিচ্ছেন ৬ হাজার মানুষ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইফতার মাহফিল। নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলটি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এক বিশাল সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

ঐতিহ্য ও ইতিহাস:
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আধ্যাত্মিক সাধক হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.) ১৯৩৫ সালে মিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ইফতারের সূচনা করেন। ১৯৫০ সাল থেকে এটি বড় পরিসরে শুরু হয়ে আজও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।

বিশাল কর্মযজ্ঞ:
বৃহস্পতিবার ১ম রমজানে সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতার প্রস্তুতির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে।

সময়সূচী: প্রতিদিন ফজর নামাজের পর (ভোর ৫:১৫ মিনিট) থেকে কাজ শুরু হয় এবং বিকাল ৫টার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ হয়।

প্রস্তুতকারী: প্রায় ৩০-৩৫ জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি ও কর্মী প্রতিদিন ইফতার তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন।

ইফতারের পদ: মেন্যুতে থাকে সিংগাড়া, ছোলা, সেদ্ধ ডিম, ফিরনি, কলা, খেজুর ও চিড়াসহ অন্যান্য পুষ্টিকর পদ।

বিশাল আয়োজন: প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার সিংগাড়া তৈরি করা হয়। বাবুর্চি মো. মুক্তার হোসেন জানান, তিনি গত ৪৮ বছর ধরে এখানে সিংগাড়া তৈরির কাজ করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক ও ব্যবস্থাপনা:
ইফতার সুশৃঙ্খলভাবে বণ্টনের জন্য নিয়োজিত থাকেন প্রায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। আসর নামাজের পর থেকেই তারা সারিবদ্ধভাবে প্লেট, পানির পট ও গ্লাস সাজানোর কাজ শুরু করেন। রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ এখানে একসঙ্গে ইফতার করেন।

দর্শনার্থী ও ভক্তদের অনুভূতি:
ইফতারে অংশ নেওয়া শিক্ষক আবু হাসান বলেন, "এত বড় আয়োজনে শরীক হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ৬ হাজার মানুষের সাথে একত্রে ইফতার করা এবং দেশের কল্যাণে দোয়া করার সুযোগ পাওয়া এক বিশেষ পাওয়া।"

অর্থায়ন ও উদ্দেশ্য:
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, ১লা রমজান থেকে ৩০শে রমজান পর্যন্ত এই আয়োজন চলে। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও অনুসারীদের যৌথ অর্থায়নে এই বিশাল খরচ মেটানো হয়। ইফতারের আগে প্রতিদিন দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।