বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় এক বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে দলটি।
বিগত সরকারগুলোর তুলনায় এবার মন্ত্রিসভার কাঠামোতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। বিশেষ করে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা।
মন্ত্রিসভার গঠন ও শপথ
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সদস্যদের মধ্যে ৪১ জনই এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বড় দায়িত্বে নতুনদের চ্যালেঞ্জ
এবারের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম: ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই তিনি পেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতো তিনটি মেগা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তাঁর অধীনে কাজ করবেন দুজন প্রতিমন্ত্রী—হাবিবুর রশিদ ও রাজীব আহসান।
আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট): তিনি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর: শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এই নতুন মুখ। তাঁর সাথে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শরিফুল আলম।
আরিফুল হক চৌধুরী: সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন নুরুল হক।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবস্থান
দলের নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে প্রত্যাশিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন জোনায়েদ সাকি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তাঁর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন ইশরাক হোসেন।
আলোচনায় টেকনোক্র্যাট ও বিশেষ নিয়োগ
সংবিধান অনুযায়ী টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনজনকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম খলিলুর রহমান, যাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটবলার আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একক দায়িত্ব সামলাবেন।
সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে এবং একজন মন্ত্রীর অধীনে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকার বিষয়টি প্রশাসনিক কাজে নতুনত্ব আনলেও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বড় বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নতুন মন্ত্রীরা কতটা দক্ষতা দেখাতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, "নতুনে কোনো সমস্যা নেই। অতীতে অভিজ্ঞদের অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। নতুনরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।"