১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নতুন সরকার এলেই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

নতুন সরকার এলেই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সেনাবাহিনী তাদের নিয়মিত আবাসস্থল অর্থাৎ ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার সিএএস (CAS) দরবারে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।

ব্যারাকে ফেরার রূপরেখা
সেনাপ্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং নির্বাচন সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী যে দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালন করেছে, তার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তবে তিনি একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। জেনারেল ওয়াকার বলেন, "পুলিশ যতক্ষণ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তার সহায়তায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন থাকবে।"

কৃতিত্ব ও কৃতজ্ঞতা
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন:

দক্ষতা: সেনাসদস্যরা যে ‘চমৎকার দায়িত্বশীলতা’ দেখিয়েছেন, তা দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

স্বীকৃতি: অস্থিতিশীল পরিবেশকে শান্ত করতে সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও সেবা দেশবাসী চিরকাল স্মরণ রাখবে।

ধৈর্যের ফল: বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।”

ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শান্তিরক্ষীরা
রাজধানীর এই অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত সদস্যদের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন। সেনাপ্রধান তাঁদের উদ্দেশ্যেও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যার পরপরই সেনাবাহিনীর বড় অংশ ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।