দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন সবার নজর দলটির ‘অগ্রাধিকার তালিকা’র দিকে।
‘জুলাই অভ্যুত্থান’ পরবর্তী বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং জেন-জি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একগুচ্ছ সাহসী সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
১. জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সংস্কার
নতুন সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে ‘জুলাই সনদের’ দফাগুলো বাস্তবায়ন করা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: আইনসভা পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তনের পরিকল্পনা।
প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা: নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনীতিকীকরণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি।
২. অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিএনপি কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে:
বন্ধ কারখানা সচল: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে উৎপাদন বাড়ানো।
বিদেশি লভ্যাংশ প্রত্যাহার: বিদেশি কোম্পানিগুলো যাতে তাদের লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে পাঠাতে পারে, তা নিশ্চিত করা; যা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) উৎসাহিত করবে।
৩. কর্মসংস্থান ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন
বেকারত্ব দূর করাকে যুদ্ধের মতো অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার:
আইটি খাতে বিশাল সুযোগ: আইসিটি সেক্টরে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা।
মেধাভিত্তিক নিয়োগ: সরকারি চাকরিতে কোটা নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
মজুরি কাঠামো: মুদ্রাস্ফীতির সাথে মিলিয়ে প্রতি দুই বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার ব্যবস্থা।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ কিছু কার্ড ও কর্মসূচি চালু করা হবে:
ফ্যামিলি কার্ড: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মাসিক বাজার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার বিশেষ সুবিধা।
স্বাস্থ্য বরাদ্দ: স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।
মিড-ডে মিল: স্কুলে পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা।
৫. আঞ্চলিক ও ডিজিটাল সংযোগ
ই-কমার্স হাব: বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব হিসেবে গড়ে তোলা।
মেক ইন বাংলাদেশ: দেশীয় পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করা।
পর্যবেক্ষণ: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। তবে ইশতেহারে উল্লিখিত সংস্কারগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশ একটি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করতে পারে।