জামায়াত নেতাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল লতিফের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
লতিফের অভিযোগ হামলাকারীরা তার তার গুদাম থেকে প্রায় ১ হাজার বস্তা চাল লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত দুটি মোটর সাইকেল ভাঙ্গচুর করে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের আসবাপত্র।
এতে তার ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তার দাবি। অভিযুক্ত জামায়াত নেতারা বলছেন চাঁদা বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা। পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে ফাসানোর জন্য নিজেরাই হামলা ও লুটপাটের নাটক সাজিয়েছেন।
উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আব্দুল লতিফ আভিযোগ করেন, সপ্তাহখানে আগে উধুনিয়া জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম, সেক্রেটারি আব্দুল কাদের ও সদস্য রেজাউল করিমসহ কয়েকজন তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি এই চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এরা তাদের লোকজন নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে তার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তিনি জামায়াতের এসব নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি একটি মামলাও দায়ের করবেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম ও সেক্রেটারি আব্দুল কাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, জামায়াত কখনও কোন চাঁদাবাজী করে না। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।
এবারের সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আব্দুল লতিফ ও তার নেতা কর্মীদের সঙ্গে বাক-বিতন্ঠা ও গোলযোগ হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে তারা চ্যালেজ ছোড়ে।
ঘটনার রাতে তারা নির্বাচনের ফলাফল পাবার জন্য রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছিলেন। মূলত নির্বাচনে হেরে যাবার পর আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য আব্দুল লফিত তার লোকজন নিয়ে নিজেরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবেন।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে উপ-পরিদর্শক আব্দুল হালিম জানান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিনি ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে অভিযোগকারী ক্ষয়-ক্ষতির দাবি সঙ্গে বাস্তবতার ওতোটা মিল নেই। তবে তার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এখন পর্যন্ত আব্দুল লতিফ থানায় মামলা দেননি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রূপকর জানান ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ থানায় প্রাথমিকভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনার সত্যতা পেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।