দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিলেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
১. জাতীয় ঐক্য ও বিভাজন দূরীকরণ
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই তারেক রহমান 'প্রতিশোধের রাজনীতি' পরিহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদের রক্তে ভেজা এই নতুন বাংলাদেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে তাঁর প্রথম কাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলেই প্রকৃত অর্জন সম্ভব।"
২. আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
বিগত সরকারের আমলে স্থবির হয়ে পড়া বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। 'টাইম' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকেই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৩. ভঙ্গুর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
বর্তমান অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির ইশতেহারে কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:
ফ্যামিলি কার্ড: নারী ও বেকারদের জন্য মাসিক নগদ সহায়তা।
তরুণ উদ্যোক্তা: ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা।
দক্ষতা উন্নয়ন: ১০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি।
৪. ভূ-রাজনীতি: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক
নয়াদিল্লির সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির ‘অসামঞ্জস্য’ দূর করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মার্কিন বাজারের সাথে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে নতুন পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
৫. জামায়াতে ইসলামী ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা
নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারেক রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের চেতনা ধরে রাখতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের এই জয় কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটি বড় সুযোগ। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ১৩.৫% যুব বেকারত্ব দূর করা হবে তাঁর সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।