দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিজেদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে আনলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।
বেড়েছে অধ্যাপক ইউনূসের সম্পদ
হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূসের মোট সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন— সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানতে সুদ বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ার।
প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদের মধ্যে বড় অংশই আর্থিক সম্পদ (১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা), যা নগদ টাকা, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র আকারে রয়েছে। এছাড়া দেশের বাইরে তাঁর ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ঋণ বা দায় নেই।
কমেছে স্ত্রীর সম্পদ
অধ্যাপক ইউনূসের সম্পদ বাড়লেও তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে তাঁর মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা। এছাড়া তাঁর ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ঋণ বা দায় রয়েছে।
কেন এই সম্পদ প্রকাশ?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উপদেষ্টারা নিয়মিত তাঁদের সম্পদের হিসাব দেবেন। গত ১ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়। এতদিন সম্পদ প্রকাশ না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও আজকের এই প্রকাশের মাধ্যমে সেই বিতর্কের অবসান ঘটল।
অন্যান্য উপদেষ্টাদের তথ্য
প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি সরকারের বর্তমান ২১ জন উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণীও প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি বছরই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
সুশাসনের ইতিহাসে এই পদক্ষেপকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান ও নীতিনির্ধারকদের এই ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের স্বপ্রণোদিত প্রকাশ ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।