আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এই অভিযোগ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও আলোচনা
সকাল ১১টার দিকে ইইউ’র ১৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে মূলত নির্বাচনের পরিবেশ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং কোনো ধরনের ‘থ্রেড’ বা হুমকি আছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "নির্বাচনে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ভূমির আশা করেছিলাম, তার চরম ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি অংশ এখনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে। এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে জামায়াত কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, কোনো ধরনের পাতানো বা একতরফা নির্বাচন বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি
নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) 'দুর্বল' উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ইসিকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।"
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের ১৫টি নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং নেতাকর্মীদের হয়রানির কথা উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, "লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে। সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব সরকারের।"
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর
ইইউ প্রতিনিধিদল ছাড়াও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ আরও বেশ কয়েকটি বিদেশি পর্যবেক্ষক দলের জামায়াত কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রচারণার শেষলগ্নে জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।